ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে ১১৬ পিস ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ২৪ দিনেও গ্রেফতার হয়নি সাংবাদিক রফিকের পিতা হত্যা মামলার আসামিরা, পরিবারের ক্ষোভ নাজিরহাট এলাকায় যৌথ অভিযানে বালুমহলে জরিমানা আদায় রূপগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের ইউনিট সভাপতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত “বৈষম্যহীন মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি আদর্শের বিকল্প নেই” মিরসরাইয়ে বেপরোয়া গতির বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ১ নারী নিহত ফেনীতে কিস্তির টাকার জন্য প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যায় রাজমিস্ত্রী গ্রেফতার কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন বেরোবির নতুন উপাচার্য নিয়োগ টঙ্গীতে নিজস্ব নির্মাণাধীন ভবন থেকে যুবকের ঝুলান্ত মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় গৃহবধূকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরেই রাত ১২টা ১ মিনিটে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, জাসদ, বাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি রংপুর প্রেস ক্লাব, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের মুহূর্তে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রংপুরে উদযাপিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৪ বছর পেরিয়ে ৫৫ বছরে এ দেশ। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার স্মরণে রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশ।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে অংশ নেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, রংপুর জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে রংপুর নগরীর সড়ক, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাল-সবুজের পতাকা ও আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

এ ছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনাসভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, বিজয় দিবস আমাদের শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।

রংপুর জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের অহংকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো আমাদের দায়িত্ব। সামনে অবাধ সুষ্ট ও নিরোপক্ষ নিবাচন উপহার দিতে কাজ করা হচ্ছে।

পরে রংপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরেই রাত ১২টা ১ মিনিটে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় বিএনপি, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, জাসদ, বাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি রংপুর প্রেস ক্লাব, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের মুহূর্তে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রংপুরে উদযাপিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৪ বছর পেরিয়ে ৫৫ বছরে এ দেশ। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার স্মরণে রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশ।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে অংশ নেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, রংপুর জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে রংপুর নগরীর সড়ক, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লাল-সবুজের পতাকা ও আলোকসজ্জায় সেজে ওঠে। পরিবার-পরিজন নিয়ে সর্বস্তরের মানুষ বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।

এ ছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনাসভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, বিজয় দিবস আমাদের শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।

রংপুর জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের অহংকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানো আমাদের দায়িত্ব। সামনে অবাধ সুষ্ট ও নিরোপক্ষ নিবাচন উপহার দিতে কাজ করা হচ্ছে।

পরে রংপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।