ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
 স্বার্থের ভিড়ে মানুষ কাফনের পথে সফর  ঝড়ের আগে পৃথিবী ফুলগাজী আমজাদ হাট ভারতীয় গাঁজা ও স্ট্রবেরিসহ স্থানীয়দের হাতে যুবক আটক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধরা নারায়ণগঞ্জের সেই ছিনতাইকারী, পিস্তল-গুলি উদ্ধার ফুলগাজীতে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ সম্মেলন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত অগ্নি ও ভূমিকম্প বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত বগুড়ার শেরপুরে ১৩ বছরের এক কিশোরকে রাতভর আটকে শারীরিক নির্যাতন উলঙ্গ করে নাচানোর ভিডিও ধারণ। রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জমজমাট ইফতার মাহফিল, দুই শতাধিক সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি

কয়লার আগুন নিভে গেছে তবু অমলিন স্টিম ইঞ্জিনের স্মৃতি

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ ৯৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

মোঃ মকবুলার রহমান
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

রেলপথে ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলা কয়লার ইঞ্জিন আজ কেবল ইতিহাসের স্মৃতি। শিল্পবিপ্লবের সূচনা থেকে উপমহাদেশের রেল পরিবহন সবখানে স্টিম ইঞ্জিনের গর্জন ছিল অগ্রগতির প্রতীক। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সেই যুগের ইতি ঘটলেও এর স্মৃতি এখনো বয়ে চলেছে রেলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

১৮০৪ সালে ব্রিটিশ প্রকৌশলী রিচার্ড ট্রেভিথিক প্রথম সফল স্টিম লোকোমোটিভ চালান। পরে ১৮২৫ সালে স্টিভেনসনের লোকোমোশন বাণিজ্যিক রেলযাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

১৮৫৩ সালে উপমহাদেশে প্রথম স্টিম ট্রেন চালু হয়, আর উনিশ শতকের শেষভাগে বর্তমান বাংলাদেশের রেলপথেও প্রবেশ করে এই ইঞ্জিন।

বাংলাদেশে ১৮৮০-এর দশক থেকে কয়েক দশক ধরে যাত্রীবাহী ও মালবাহী উভয় ট্রেনই চলত কয়লা-চালিত স্টিম ইঞ্জিনে। বড় স্টেশনগুলোতে ছিল কয়লা-ইয়ার্ড, পানি ভরার ট্যাঙ্ক, ওয়ার্কশপ ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র। বয়লার গরম করা, পানি ভরা এবং শাবল দিয়ে কয়লা তোলার দৃশ্য ছিল তখনকার সময়ের দৈনন্দিন রেলের প্রাণচাঞ্চল্যের অংশ।

স্টিম ইঞ্জিন পরিচালনায় শ্রম ও সতর্কতার প্রয়োজন ছিল ব্যাপক—
বয়লারের চাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি সরবরাহ, কয়লা তোলা, পাইপ পরীক্ষা—এসব নিয়ে চলত টানা ব্যস্ততা। তবুও রেলকর্মীরা গর্বের সাথে এ ইঞ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন।

ধোঁয়া ও বাষ্পে আকাশ ঢেকে যাওয়া, দূর থেকে ভেসে আসা হুইসেলের শব্দ—এসবই ছিল রেলযাত্রার বিশেষ আবেগ।

সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্টিম ইঞ্জিন পিছিয়ে পড়ে। প্রচুর কয়লার প্রয়োজন, উচ্চ ব্যয়, কম কার্যকারিতা, পরিবেশ দূষণ সব মিলিয়ে নীতিগতভাবে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে ডিজেল প্রযুক্তির উত্থান স্টিম ইঞ্জিনের জায়গা দখল করে নেয়।

অবশেষে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টিম ইঞ্জিনের অবসান ঘোষণা করে।

এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় এক দীর্ঘ শতাব্দীর যাত্রা—যে যাত্রা দেশের রেল যোগাযোগকে তৈরি করেছিল একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর।

রেল ইতিহাসবিদদের মতে, স্টিম ইঞ্জিন শুধু প্রযুক্তি নয়, ছিল এক যুগের সংস্কৃতি।
যে শব্দ, যে ধোঁয়া, যে উচ্ছ্বাস আজও অনেক মানুষ গভীর আবেগ নিয়ে স্মরণ করেন সেই সময়কে। এককথায়, স্টিম ইঞ্জিনের শেষ হুইসেল থেমে গেলেও তার স্মৃতি কখনো থামে না।

প্রযুক্তি বদলায়, ইঞ্জিন বদলায় কিন্তু কয়লার ইঞ্জিনের ধোঁয়া-ভরা সোনালি অধ্যায় রেল ইতিহাসে চিরদিন অমর হয়ে থাকবে।

দৈনিক যখন সময় এর পাঠকের জন্য তথ্যগুলো গুগল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

কয়লার আগুন নিভে গেছে তবু অমলিন স্টিম ইঞ্জিনের স্মৃতি

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
print news

মোঃ মকবুলার রহমান
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

রেলপথে ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলা কয়লার ইঞ্জিন আজ কেবল ইতিহাসের স্মৃতি। শিল্পবিপ্লবের সূচনা থেকে উপমহাদেশের রেল পরিবহন সবখানে স্টিম ইঞ্জিনের গর্জন ছিল অগ্রগতির প্রতীক। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সেই যুগের ইতি ঘটলেও এর স্মৃতি এখনো বয়ে চলেছে রেলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

১৮০৪ সালে ব্রিটিশ প্রকৌশলী রিচার্ড ট্রেভিথিক প্রথম সফল স্টিম লোকোমোটিভ চালান। পরে ১৮২৫ সালে স্টিভেনসনের লোকোমোশন বাণিজ্যিক রেলযাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

১৮৫৩ সালে উপমহাদেশে প্রথম স্টিম ট্রেন চালু হয়, আর উনিশ শতকের শেষভাগে বর্তমান বাংলাদেশের রেলপথেও প্রবেশ করে এই ইঞ্জিন।

বাংলাদেশে ১৮৮০-এর দশক থেকে কয়েক দশক ধরে যাত্রীবাহী ও মালবাহী উভয় ট্রেনই চলত কয়লা-চালিত স্টিম ইঞ্জিনে। বড় স্টেশনগুলোতে ছিল কয়লা-ইয়ার্ড, পানি ভরার ট্যাঙ্ক, ওয়ার্কশপ ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র। বয়লার গরম করা, পানি ভরা এবং শাবল দিয়ে কয়লা তোলার দৃশ্য ছিল তখনকার সময়ের দৈনন্দিন রেলের প্রাণচাঞ্চল্যের অংশ।

স্টিম ইঞ্জিন পরিচালনায় শ্রম ও সতর্কতার প্রয়োজন ছিল ব্যাপক—
বয়লারের চাপ নিয়ন্ত্রণ, পানি সরবরাহ, কয়লা তোলা, পাইপ পরীক্ষা—এসব নিয়ে চলত টানা ব্যস্ততা। তবুও রেলকর্মীরা গর্বের সাথে এ ইঞ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন।

ধোঁয়া ও বাষ্পে আকাশ ঢেকে যাওয়া, দূর থেকে ভেসে আসা হুইসেলের শব্দ—এসবই ছিল রেলযাত্রার বিশেষ আবেগ।

সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্টিম ইঞ্জিন পিছিয়ে পড়ে। প্রচুর কয়লার প্রয়োজন, উচ্চ ব্যয়, কম কার্যকারিতা, পরিবেশ দূষণ সব মিলিয়ে নীতিগতভাবে এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে ডিজেল প্রযুক্তির উত্থান স্টিম ইঞ্জিনের জায়গা দখল করে নেয়।

অবশেষে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টিম ইঞ্জিনের অবসান ঘোষণা করে।

এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় এক দীর্ঘ শতাব্দীর যাত্রা—যে যাত্রা দেশের রেল যোগাযোগকে তৈরি করেছিল একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর।

রেল ইতিহাসবিদদের মতে, স্টিম ইঞ্জিন শুধু প্রযুক্তি নয়, ছিল এক যুগের সংস্কৃতি।
যে শব্দ, যে ধোঁয়া, যে উচ্ছ্বাস আজও অনেক মানুষ গভীর আবেগ নিয়ে স্মরণ করেন সেই সময়কে। এককথায়, স্টিম ইঞ্জিনের শেষ হুইসেল থেমে গেলেও তার স্মৃতি কখনো থামে না।

প্রযুক্তি বদলায়, ইঞ্জিন বদলায় কিন্তু কয়লার ইঞ্জিনের ধোঁয়া-ভরা সোনালি অধ্যায় রেল ইতিহাসে চিরদিন অমর হয়ে থাকবে।

দৈনিক যখন সময় এর পাঠকের জন্য তথ্যগুলো গুগল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।