ঢাকা ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
 স্বার্থের ভিড়ে মানুষ কাফনের পথে সফর  ঝড়ের আগে পৃথিবী ফুলগাজী আমজাদ হাট ভারতীয় গাঁজা ও স্ট্রবেরিসহ স্থানীয়দের হাতে যুবক আটক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধরা নারায়ণগঞ্জের সেই ছিনতাইকারী, পিস্তল-গুলি উদ্ধার ফুলগাজীতে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ সম্মেলন ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত অগ্নি ও ভূমিকম্প বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত বগুড়ার শেরপুরে ১৩ বছরের এক কিশোরকে রাতভর আটকে শারীরিক নির্যাতন উলঙ্গ করে নাচানোর ভিডিও ধারণ। রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জমজমাট ইফতার মাহফিল, দুই শতাধিক সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি

গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নম্র, ভদ্র ও দানশীল হিসেবে পরিচিত আশরাফুলকে কে বা কারা এভাবে খুন করল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না গ্রামবাসী।

আজ (১৪ নভেম্বর) শুক্রবার দুপুরে পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ। বাড়ির দরজায় নির্বাক বসে আছেন বাবা আব্দুর রশিদ। মা এছরা খাতুন শয্যাশায়ী। ঘরের ভেতর স্ত্রী লাকী বেগমের আহাজারিতে ভারী পরিবেশ।

জানা গেছে, আশরাফুলের কোনো ভাই নেই, ৪ বোন আছে। বাবা ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন। শৈশব থেকে বাবার সঙ্গে কাঁচামাল ব্যবসায় যুক্ত হন আশরাফুল। তাঁর ১টি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে (১৩) ও ৫ বছরের ছেলে রয়েছে।

গ্রামের নুর আলম জানান, ছোট থেকে সংগ্রাম করে সম্পদ করেছেন আশরাফুল। মঙ্গলবার রাতেই প্রবাসী বন্ধু জরেজ ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় যান। পরদিনই শুনি তাঁকে ২৬ টুকরা করা হয়েছে।

আশরাফুলের স্ত্রী লাকী বেগম জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন জরেজ। মঙ্গলবার তিনিই আমার স্বামীকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে ফোন করলে স্বামীর ফোন ধরেন জরেজ। বলেন, আপনার স্বামী ফোন রেখে কালেকশনে গেছে। আমার স্বামীকে উনিই খুন করেছেন। আমি কঠোর শাস্তি চাই।

বাবা আব্দুর রশিদ জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আমাকে হাসপাতালে দেখতে আসে আশরাফুল। সঙ্গে ছিল জরেজ। আমি বলেছিলাম, আমাকে হাসপাতালে রেখে ঢাকায় যাইও না। কিন্তু জরেজ খুব তাগাদা দিচ্ছিল ঢাকায় যাওয়ার। জরেজকে ধরলেই খুনের রহস্য বের হবে।

এদিকে আশরাফুলকে দাফনের জন্য মাদ্রাসা–মসজিদের পাশেই কবর খোঁড়া হয়েছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত লাশ বাড়িতে পৌঁছায়নি।

সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, কাঁচামালের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন আশরাফুল। ২ ঈদে গরিব মানুষের মধ্যে শাড়ি–লুঙ্গি ও খাবার বিতরণ করতেন। কোরবানির ঈদে গরু কিনে মাংস দিতেন। তাঁর কোনো শত্রু ছিল না। ঢাকায় কেন তাঁকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, বুঝতে পারছি না।

বদরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, খুনের ঘটনা ঢাকায়, মামলা হবে ঢাকায়। আমরা ১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। ঢাকা ডিবির টিম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আমরা সহযোগিতা করছি।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে ড্রাম থেকে ২৬ টুকরা অবস্থায় আশরাফুল হকের লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৮:০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

রংপুরের বদরগঞ্জের গোপালপুর নয়াপাড়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নম্র, ভদ্র ও দানশীল হিসেবে পরিচিত আশরাফুলকে কে বা কারা এভাবে খুন করল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না গ্রামবাসী।

আজ (১৪ নভেম্বর) শুক্রবার দুপুরে পুরো গ্রাম নিস্তব্ধ। বাড়ির দরজায় নির্বাক বসে আছেন বাবা আব্দুর রশিদ। মা এছরা খাতুন শয্যাশায়ী। ঘরের ভেতর স্ত্রী লাকী বেগমের আহাজারিতে ভারী পরিবেশ।

জানা গেছে, আশরাফুলের কোনো ভাই নেই, ৪ বোন আছে। বাবা ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন। শৈশব থেকে বাবার সঙ্গে কাঁচামাল ব্যবসায় যুক্ত হন আশরাফুল। তাঁর ১টি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে (১৩) ও ৫ বছরের ছেলে রয়েছে।

গ্রামের নুর আলম জানান, ছোট থেকে সংগ্রাম করে সম্পদ করেছেন আশরাফুল। মঙ্গলবার রাতেই প্রবাসী বন্ধু জরেজ ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় যান। পরদিনই শুনি তাঁকে ২৬ টুকরা করা হয়েছে।

আশরাফুলের স্ত্রী লাকী বেগম জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার স্বামীর কাছে ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন জরেজ। মঙ্গলবার তিনিই আমার স্বামীকে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে ফোন করলে স্বামীর ফোন ধরেন জরেজ। বলেন, আপনার স্বামী ফোন রেখে কালেকশনে গেছে। আমার স্বামীকে উনিই খুন করেছেন। আমি কঠোর শাস্তি চাই।

বাবা আব্দুর রশিদ জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আমাকে হাসপাতালে দেখতে আসে আশরাফুল। সঙ্গে ছিল জরেজ। আমি বলেছিলাম, আমাকে হাসপাতালে রেখে ঢাকায় যাইও না। কিন্তু জরেজ খুব তাগাদা দিচ্ছিল ঢাকায় যাওয়ার। জরেজকে ধরলেই খুনের রহস্য বের হবে।

এদিকে আশরাফুলকে দাফনের জন্য মাদ্রাসা–মসজিদের পাশেই কবর খোঁড়া হয়েছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত লাশ বাড়িতে পৌঁছায়নি।

সাবেক ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন জানান, কাঁচামালের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন আশরাফুল। ২ ঈদে গরিব মানুষের মধ্যে শাড়ি–লুঙ্গি ও খাবার বিতরণ করতেন। কোরবানির ঈদে গরু কিনে মাংস দিতেন। তাঁর কোনো শত্রু ছিল না। ঢাকায় কেন তাঁকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, বুঝতে পারছি না।

বদরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম আতিকুর রহমান জানান, খুনের ঘটনা ঢাকায়, মামলা হবে ঢাকায়। আমরা ১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। ঢাকা ডিবির টিম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আমরা সহযোগিতা করছি।

উল্লেখ্য, হাইকোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে ড্রাম থেকে ২৬ টুকরা অবস্থায় আশরাফুল হকের লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।