ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রক্ত দিয়ে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেলো রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি রবিউলের কিশোরগঞ্জে নকল ঔষধ কারখানায় অভিযান ও জরিমানা ‎জলঢাকায় বুড়িতিস্তা নদী খনন প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত চালুর ও মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুরে কবরস্থান থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার নির্বাচনে নাশকতার সন্দেহ মনোহরদীতে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে ননদের কামড়ে ছিড়ে গেছে ভাবীর ঠোঁট নিজ বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার মনোহরদীতে মোটরসাইকেল চাপায় মাদ্রাসা সুপার নিহত দেশের সবকিছুর ভিত্তি আইনশৃঙ্খলা শুরুতে সমস্যা থাকলেও এখন ভালো অবস্থা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় “শান্তিতে থাকবো” অপরকে শান্তিতে রাখবো সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগ শীতবস্ত্র বিতরণ

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫ ২০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

আজ ১০ নভেম্বর, শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মিছিলে শহীদ হন নূর হোসেন। তার আত্মত্যাগ তৎকালীন সামরিক শাসকের পতনকে ত্বরান্বিত করে।

স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন ১০ নভেম্বর। বুকে স্বৈরাচার নিপাত যাক এবং পিঠে গণতন্ত্র মুক্তি পাক লিখে নূর হোসেন মিছিলের অগ্রভাগে অবস্থান করেন। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় নূর হোসেনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গুলি করে হত্যা করলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয়। ধারাবাহিক লড়াইয়ের পর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন এরশাদ সরকারের পতন হয় এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করে।

নূর হোসেন ১৯৮৭ সালে তৎকালীন আন্দোলনের নায়ক। তিনি জীবন্ত পোস্টারের মতো বুকে-পিঠে স্লোগান ধারণ করে গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর আত্মদানের তিন বছরের মধ্যে, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

নূর হোসেন শহীদ হওয়ার মাস না পেরোতেই ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এরশাদ। ১৯৮৮ সালের মার্চে নির্বাচন হলেও বড় দলগুলো অংশ না নেওয়ায় তা বৈধতা পায়নি। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে।

উল্লেখ্য, যে জায়গায় নূর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন, সেই জিরো পয়েন্ট এখন শহীদ নূর হোসেন চত্বর নামে পরিচিত।

ঢাকার নারিন্দায় এক অটোরিকশাচালকের ঘরে জন্ম নেওয়া নূর হোসেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগের মিছিল পল্টন এলাকার জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করে। তখন নূর হোসেন ও যুবলীগ নেতা বাবুল গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাঁর বুকে-পিঠের স্লোগান আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

আজ ১০ নভেম্বর, শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তৎকালীন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মিছিলে শহীদ হন নূর হোসেন। তার আত্মত্যাগ তৎকালীন সামরিক শাসকের পতনকে ত্বরান্বিত করে।

স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় দিন ১০ নভেম্বর। বুকে স্বৈরাচার নিপাত যাক এবং পিঠে গণতন্ত্র মুক্তি পাক লিখে নূর হোসেন মিছিলের অগ্রভাগে অবস্থান করেন। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় নূর হোসেনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী গুলি করে হত্যা করলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয়। ধারাবাহিক লড়াইয়ের পর ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন এরশাদ সরকারের পতন হয় এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। দিবসটি উপলক্ষে প্রতি বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি পালন করে।

নূর হোসেন ১৯৮৭ সালে তৎকালীন আন্দোলনের নায়ক। তিনি জীবন্ত পোস্টারের মতো বুকে-পিঠে স্লোগান ধারণ করে গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর আত্মদানের তিন বছরের মধ্যে, ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।

নূর হোসেন শহীদ হওয়ার মাস না পেরোতেই ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এরশাদ। ১৯৮৮ সালের মার্চে নির্বাচন হলেও বড় দলগুলো অংশ না নেওয়ায় তা বৈধতা পায়নি। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে।

উল্লেখ্য, যে জায়গায় নূর হোসেন গুলিবিদ্ধ হন, সেই জিরো পয়েন্ট এখন শহীদ নূর হোসেন চত্বর নামে পরিচিত।

ঢাকার নারিন্দায় এক অটোরিকশাচালকের ঘরে জন্ম নেওয়া নূর হোসেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া শেষে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর আওয়ামী লীগের মিছিল পল্টন এলাকার জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়ে মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করে। তখন নূর হোসেন ও যুবলীগ নেতা বাবুল গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। তাঁর বুকে-পিঠের স্লোগান আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে।