অপারেশন ক্লাস্টার টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান ইয়াবা ও মানব পাচার রুখে ১৩ জন উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু
ক্রাইম রিপোর্টার:
মাদক ও মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে সীমান্তজুড়ে কম্ব্যাট অ্যালার্ট জারি করেছে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)।
ব্যাটালিয়নের কৌশলগত পরিকল্পনায় গত ১ ও ২ নভেম্বর পরপর তিনটি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধারসহ ১৩ জন মানব পাচারের শিকার ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত সুরক্ষা মানব পাচার প্রতিরোধ এবং জাতিকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে মুক্ত রাখার অঙ্গীকারে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই ত্রিমুখী অভিযানে পাচারকারীদের সক্রিয়তা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়।
প্রথম অভিযান: মানব পাচার চক্রের কবল থেকে ১৩ জন উদ্ধার
১ নভেম্বর রাতে টেকনাফের হাবিবছড়া ও মিঠাপানিছড়া এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে মানব পাচার চক্রের একটি আস্তানায় অভিযান চালায় ২ বিজিবি।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে গেলেও ৯ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ২ জন শিশুসহ ১৩ জন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়,
উদ্ধারকৃতদের বরাতে জানা যায়, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভনে ফেলে একটি চক্র তাদের সাগর পথে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
২ বিজিবির সময়োপযোগী অভিযানে তাদের এই অনিশ্চিত যাত্রা থেমে যায়, পরে ভুক্তভোগীদের টেকনাফ মডেল থানার মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযান: ৬০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
পরদিন ২ নভেম্বর সন্ধ্যায় নাজিরপাড়া সীমান্তের গফুর মেম্বারের ঘের এলাকায় আরেকটি অভিযান চালায় বিজিবি, ওই সময় পাচারকারীরা ধাওয়া খেয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া বস্তা থেকে উদ্ধার হয় ৬০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
তবে কেউ গ্রেফতার হয়নি বিজিবির ধারণা, সম্প্রতি যৌথ অভিযানে লুকিয়ে রাখা মাদক পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় তারা সীমান্তে এসেছিল।
তৃতীয় অভিযান: চোলাই মদসহ দুইজন আটক
একই রাতে নোয়াখালী পাড়া এলাকায় যানবাহন তল্লাশীকালে একটি অটোরিকশা থেকে ৩৪ লিটার দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় যাত্রীবেশে থাকা দুইজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন:
১. মোঃ আব্দুল্লাহ (৩৫), পিতা-আঃ সালাম, গ্রাম-বানিয়াপাড়া, টেকনাফ।
২. মোঃ জয়নাল (২০), পিতা-মোঃ হামিদ হোসেন, গ্রাম-শ্যামলাপুর, টেকনাফ।
জব্দকৃত আলামত:
৩৪ লিটার দেশীয় চোলাই মদ ও দুটি মোবাইল ফোন।
অধিনায়কের বক্তব্য
অভিযান প্রসঙ্গে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন, মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষায় আমরা সংকল্পবদ্ধ ও সদা প্রস্তুত।
দেশের নিরাপত্তা এবং জনপদের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস নেই। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও মানব পাচারসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।





























