Header Premium (728×90)

অপরাধ

ছেলে জাহিদ হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার এখনো পাইনি উল্টো ভয়বীতি ও হুমকি

ফখরুল আলম সাজু
ক্রাইম রিপোর্টার:

ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের নয়াকান্দা গ্রামের জাহিদ। সে দিনমজুরের কাজ করতো।

জঘন্যতম চাঞ্চল্যকর জাহিদ হত্যা মামলায় যাহারা জাহিদকে হত্যার জন্য মূল মাস্টারমাইন্ড তাহাদের বাদ দিয়ে অর্থ্যাৎ মালেক দেওয়ান, নাজমা বেগম, এমদাদুল দেওয়ান, রতন দেওয়ান, মোতালেব সিকদার, রুমন আলী, চয়ন, রাব্বি দেওয়ান, মোসলেম উদ্দিন পায়েল সহ আরও অনেককে বাদ দিয়ে মামলার চার্জশীট প্রদান করে এবং এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড সম্পর্কে যারা জানে, যারা দেখেছে তাদের বাদ দিয়ে স্বাক্ষী করেছে। অতএব, তারা আওয়ামীলীদের দোসর এবং প্রকাশ্যে রাতের বেলা জাহিদকে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যা করে। আমি জাহিদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ দোসরদের যদি বিচার না হয় তাহলে তারা জাহিদ-এর মতো অন্যদের সাথেও এমন জঘন্যতম ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ড ঘটাতে দ্বিধাবোধ করবে না। গ্রামবাসী সকলে চায় এইসব আসামীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা যেন আর মরে গিয়েও জাহিদ যেন সঠিক বিচার পায়। এইসব আসামী অথ্যাৎ মালেক দেওয়ান, নাজমা বেগম, এমদাদুল দেওয়ান, রতন দেওয়ান, মোতালেব সিকদার, রুমন আলী, চয়ন, রাব্বি দেওয়ান, মোসলেম উদ্দিন পায়েল সহ আরও অনেকের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি চাই, ফাঁসি চাই।

জাহিদের মা রহিমা খাতুন জানান, গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাতে আমার ছেলে ও নাফিজ বেপারী (জান্নাতকে) কৈইলাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সেক্রেটারি ডয়েসের ভাগিনা শাওন ফোন দিয়ে বলে আমার মামার দোকানে সিমেন্টের বস্তা আসছে এগুলো নামাতে হবে।
কাজের কথা বলে রাতে নিয়ে যায়।

রহিমা খাতুন বলেন আমার ছেলে জাহিদ কে নিয়ে গিয়ে বলে এই বিল্ডিং এ আগুন দিতে হইবো। আমার ছেলে জাহিদ ও জান্নাত অস্বীকৃতি জানালে যে, তারা বলেন আমরা তো কাম কইরা খাই, এই কাজ আমরা করতে পারমু না। জাহিদ না করাতে শাওন ও তাদের সাথে মুখোশ পড়া আরো কয়েকজন লোক আমার ছেলে জাহিদের গায়ে পেট্রোল দিয়ে সারা শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়।

জান্নাত দৌড়ে পালায়, পাশের একটি আম বাগানে জাহিদ হুমরি খেয়ে পড়ে। রহিমা খাতুন আরো জানান আমার ছেলে জাহিদ আমার বড় ছেলেকে ফোন দেয়। পরে আবার জান্নাত সেখানে যায়। আমার বড় ছেলে ও জান্নাত মিলে আমার আগুনে পুড়ানো ছেলেকে তুলে আনে। ঢাকা বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করায়। ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৪ আমার ছেলে জাহিদ এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়।

রহিমা খাতুন বলেন, আমরা মূর্খ সূক্ষ্ম মানুষ এতকিছু বুঝি না, ওসি মমিন সাহেবের মাধ্যমে থানায় মামলা করি। তদন্তের দায়িত্ব পড়ে আয়ু লুৎফর সাহেবের কাছে। আমরা আশা রেখে ছিলাম পুলিশ ও আদালতের মাধ্যমে সঠিক বিচার পাবো। কিন্তু গত ১ বছর হয়ে গেলো মামলার ১ম আসামী শাওনকে গ্রেফতার করতে পারলো না পুলিশ। যে শাওন দেশেই আছে। নিয়মিত ফেসবুকে ছবি আপলোড ও চালায়।

শাওনকে ধরলে বাকি কয়েকজন মুখোশ পড়া যারা পেট্রোল ধরিয়ে আগুন দিয়ে দিয়েছে তাদের সন্ধান পাওয়া যেত। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের এখানে চরম ব্যর্থতা।

পুলিশ আমাদেরকে না জানিয়ে না বলে নিজেদের মতো চার্জশীট বানিয়ে দিয়েছে। আমরা গরিব বলে প্রভাবশালী অপর পক্ষের সাথে আতাত করে বড় কিছুর আদান-প্রদানের বিনিময়ে এমন দুই নম্বর কাজ করেছে।

যে বাড়িতে আগুন দিতে বলে সেটি হাসান সাহেবের বাড়ি। ২০১৮ সালে হাসান সাহেবের মেয়েকে বিয়ে করেছে আওয়ামীলীগের নেতা মালেক দেওয়ানের ছেলে কায়েত। বিয়ের পর বউকে বেশি গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য মালেক দেওয়ান, তার বউ নাজমা বেগম ও ছেলে রতন ও এমদাদুলের সাথে দ্বন্দ্ব ও কোলাহল শুরু হয়। এমদাদুল ও রতন তারা তখনকার যুবলীগের নেতা হওয়ায় হাসান সাহেবকে নানা ধরণের ভয়-ভীতি দেখায়। এমদাদুল ও রতনের সকল মাদক ও চোরা চালান ব্যবসায় ডান হাত হলো শাওন।

রহিমা বেগম জানতে পারছি প্রতিশোধের বসে রতন ও এমদাদুলের সাথে থেকে শাওনের মাধ্যমে আমার ছেলেকেও জান্নাতকে দিয়ে হাসান সাহেবের বাড়িতে আগুন লাগানোর ফাঁদ করে।

আমার ছেলে মারা যাওয়ার পর মালেক দেওয়ানের স্ত্রী ও কিছু মহিলা কয়েক দফায় আমর কহে আসে আমাকে বলে, “যেমনেই হোক তোমার এক ছেলে মারা গেছে এটার মিল মীমাংসা না হলে তোমার বড় ছেলেরও ক্ষতি হবে। জাহিদের বাবাকে কয়েক দফায় মালেক দেওয়ান, ভয়েস ও মতু শিকদার টাকার বিনিময়ে মীমাংশা করতে বলেন।

এই মাসের ১৯ তারিখে এমদাদুল ও রতন জান্নাতকে জামিনে বের করে ওদের কিশোর গ্যাং চয়ন, রোমন, ছাত্রলীগের মুসলেম উদ্দীন পায়েল ও রাতুলকে দিয়ে আমার বাড়ির সামনে বিজয় মিছিল করে ও আমাদের দেখে নিবে এই কথা বলে হুমকি-ধামকি দেয়।

জান্নাত কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় কয়েক দফা রতন ও এমদাদুল দেখা করে ও জান্নাত ও তার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় যদি কিছু বলে। থানার ওসি মুমিন সাহেব ও আইইউ লুৎফরের সাথে রতন ও এমদাদুল বড় কিছুর বিনিময়ে গভীর সম্পর্ক করেছে। যাতে চার্জশীট নরমাল ও মামলা ডিসমিস হয়।

আমার ছেলেজাহিদ হত্যার সুষ্ঠু তদন্তবিচার চাচ্ছি এবং মিডিয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান রইল এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার অনুরোধ রইল।

saju

Recent Posts

নেত্রকোণায় জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন

যখন সময় ডেস্ক রির্পোট: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান “বীর উত্তম”…

17 minutes ago

খিলগাঁওয়ে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফখরুল আলম সাজু বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে…

4 hours ago

ভোলায় গৃহবধূকে ধর্ষণ করতে গিয়ে বিশেষ অঙ্গ হারাতে বসেছেন যুবক

নুপুর আক্তার, নিজস্ব প্রতিনিধি: ভোলা জেলা চরফ্যাশন উপজেলায় ১ গৃহবধূকে ধর্ষণে করতে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতির…

5 hours ago

মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

মোঃ রাব্বি হাসান দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফুলবাড়ীর সকল স্তরের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের…

5 hours ago

কুড়িগ্রামে আবাসিক হোটেলে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, হোটের মালিক গ্রেফতার

ফখরুল আলম সাজু কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় ১টি আবাসিক হোটেলে ১ গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে হোটেল…

6 hours ago

কেল্লাপোষী মেলা শেষ, কিন্তু প্রশ্ন আরও বড় হয়ে ফিরে এসেছ

ঐতিহ্য হারাচ্ছে কি শেরপুরের কেল্লাপোষী মেলা? অশ্লীলতা, জুয়া ও জবাবদিহির সংকটে একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা মূল…

9 hours ago

This website uses cookies.