ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রক্ত দিয়ে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেলো রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি রবিউলের কিশোরগঞ্জে নকল ঔষধ কারখানায় অভিযান ও জরিমানা ‎জলঢাকায় বুড়িতিস্তা নদী খনন প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত চালুর ও মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুরে কবরস্থান থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার নির্বাচনে নাশকতার সন্দেহ মনোহরদীতে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে ননদের কামড়ে ছিড়ে গেছে ভাবীর ঠোঁট নিজ বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার মনোহরদীতে মোটরসাইকেল চাপায় মাদ্রাসা সুপার নিহত দেশের সবকিছুর ভিত্তি আইনশৃঙ্খলা শুরুতে সমস্যা থাকলেও এখন ভালো অবস্থা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় “শান্তিতে থাকবো” অপরকে শান্তিতে রাখবো সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগ শীতবস্ত্র বিতরণ

ফেনী থানায় জিডি করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার ব্যবসায়ী

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

ফেনী থানায় জিডি করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার ব্যবসায়ী

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:

ফেনীর পাাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম ভূঞা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলা ও হুমকির শিকার হয়ে থানায় জিডি করতে গেলে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস এবং এএসআই এমরান হোসেন তার সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকির মুখে পড়েছেন।

১৬ আগষ্ঠ শনিবার রাতে এই ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সিকিউরিটি সেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে জাহিদুল উল্লেখ করেন, ফেনী সদরের মাথিয়ার গ্রামের কিছু সন্ত্রাসী অপু, হাসান, জয়, সামীর সহ ৮-১০ জনের একটি চক্র এলাকায় মদ, জুয়া, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রতিবাদ করায় ১৩ আগস্ট রাত তার মেডিসিন দোকানের সামনে হুমকি দেওয়া হয়।

এই ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করায় পরেরদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢুকে জাহিদের উপর হামলা চালায়।
জাহিদুল বিষয়টি ফেনী মডেল থানার এএসআই এমরান হোসেনকে ফোনে জানালে, রাত ৯টার দিকে এএসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য নেন এবং পরামর্শ দেন সকাল হলে থানায় এসে বিষয়টি জানাতে।

পরের দিন, ১৫ আগস্ট সকালে থানা আসলে এএসআই এমরান বিষয়টি নিয়ে জিডি করার পরামর্শ দেয়। এই জন্য জাহিদ লিখিত কপি নিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে গেলে, জিডি কপি সহ তিনি ও তার গ্রামের দুই ব্যক্তি পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাসের কক্ষে যান। সেখানে সজল কান্তি দাস ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে বলেন তুই কার সঙ্গে পরামর্শ করে জিডি করতে আসছিস তুই মিথ্যাবাদি। তোকে দেখতে ক্রিমিনালের মতো লাগে। আমি এখনই তোকে এসআই দিয়ে গ্রেফতার করাবো। তোর বিরুদ্ধে একশান নেবো।

অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে, সজল কান্তি দাস জিডি কপি ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং ডিউটি অফিসারকে বলেন এন্ট্রি কর, আর তুই এই জিডি গলায় ঝুলিয়ে রাখিস। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই মাহিম ও গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ খালেক উপস্থিত ছিলেন।
জাহিদুল বলেন, আমার ছোট জীবনে প্রথমবার থানায় গিয়েছিলাম। পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন আচরণ আমাকে হতাশ করেছে। সন্ত্রাসীদের হুমকি ও হামলার কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এমনকি ব্যবসার ঔষধের দোকানও খুলতে পারছি না।

তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা চেয়ে এবং নিজের ও ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং ফেনীর পুলিশ সুপার-এর নিকট।
এ বিষয়ে সজল কান্তি দাস বলেন, মাথিয়ারার একজন ব্যাক্তি প্রথমে একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। আমি ঘটনার তদন্তে একজন অফিনার পাঠিয়েছি। পরে তিনি তা প্রত্যাহার করেন। পরের দিন তিনি আবার জিড়ি করার জন্য এলে আগেরটা পত্যাহার ও নতুন করে করার কারন জানতে চেয়েছি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। একজন ভুক্তভোগী থানায় এলে তাকে আইনের সহায়তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফেনী থানায় জিডি করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার ব্যবসায়ী

আপডেট সময় : ১২:৪০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:

ফেনীর পাাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামের ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম ভূঞা অভিযোগ করেছেন, এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলা ও হুমকির শিকার হয়ে থানায় জিডি করতে গেলে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস এবং এএসআই এমরান হোসেন তার সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকির মুখে পড়েছেন।

১৬ আগষ্ঠ শনিবার রাতে এই ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সিকিউরিটি সেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে জাহিদুল উল্লেখ করেন, ফেনী সদরের মাথিয়ার গ্রামের কিছু সন্ত্রাসী অপু, হাসান, জয়, সামীর সহ ৮-১০ জনের একটি চক্র এলাকায় মদ, জুয়া, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। প্রতিবাদ করায় ১৩ আগস্ট রাত তার মেডিসিন দোকানের সামনে হুমকি দেওয়া হয়।

এই ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করায় পরেরদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই সন্ত্রাসীরা দোকানে ঢুকে জাহিদের উপর হামলা চালায়।
জাহিদুল বিষয়টি ফেনী মডেল থানার এএসআই এমরান হোসেনকে ফোনে জানালে, রাত ৯টার দিকে এএসআই ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্য নেন এবং পরামর্শ দেন সকাল হলে থানায় এসে বিষয়টি জানাতে।

পরের দিন, ১৫ আগস্ট সকালে থানা আসলে এএসআই এমরান বিষয়টি নিয়ে জিডি করার পরামর্শ দেয়। এই জন্য জাহিদ লিখিত কপি নিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে গেলে, জিডি কপি সহ তিনি ও তার গ্রামের দুই ব্যক্তি পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাসের কক্ষে যান। সেখানে সজল কান্তি দাস ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে বলেন তুই কার সঙ্গে পরামর্শ করে জিডি করতে আসছিস তুই মিথ্যাবাদি। তোকে দেখতে ক্রিমিনালের মতো লাগে। আমি এখনই তোকে এসআই দিয়ে গ্রেফতার করাবো। তোর বিরুদ্ধে একশান নেবো।

অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে, সজল কান্তি দাস জিডি কপি ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং ডিউটি অফিসারকে বলেন এন্ট্রি কর, আর তুই এই জিডি গলায় ঝুলিয়ে রাখিস। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই মাহিম ও গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ খালেক উপস্থিত ছিলেন।
জাহিদুল বলেন, আমার ছোট জীবনে প্রথমবার থানায় গিয়েছিলাম। পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন আচরণ আমাকে হতাশ করেছে। সন্ত্রাসীদের হুমকি ও হামলার কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এমনকি ব্যবসার ঔষধের দোকানও খুলতে পারছি না।

তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা চেয়ে এবং নিজের ও ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং ফেনীর পুলিশ সুপার-এর নিকট।
এ বিষয়ে সজল কান্তি দাস বলেন, মাথিয়ারার একজন ব্যাক্তি প্রথমে একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। আমি ঘটনার তদন্তে একজন অফিনার পাঠিয়েছি। পরে তিনি তা প্রত্যাহার করেন। পরের দিন তিনি আবার জিড়ি করার জন্য এলে আগেরটা পত্যাহার ও নতুন করে করার কারন জানতে চেয়েছি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সামসুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। একজন ভুক্তভোগী থানায় এলে তাকে আইনের সহায়তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।