অপতথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা কামনা প্রধান উপদেষ্টার
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫ ১২৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
গণমাধ্যমে নৈতিকতা নিশ্চিত এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে জাতিসংঘকে আরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে আজ আমাদের সমাজ ও গণতন্ত্র। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”
বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুসান ভাইজ এবং ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা’ বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মেহদি বেনচেলাহ’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউনেস্কোর যৌথভাবে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিমণ্ডলের মূল্যায়ন: স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যমের দিকে মনোনিবেশ’ প্রকাশের একদিন আগে। উক্ত প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি মূল্যায়ন তুলে ধরবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, শুধু অনলাইন বা সামাজিক মাধ্যমই নয়, মূলধারার অনেক গণমাধ্যমও কখনো কখনো ভুয়া তথ্য প্রচার করছে। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অভাবেই এ ধরনের প্রবণতা বাড়ছে।” তিনি জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা শুধু সরকারের সঙ্গে নয়, গণমাধ্যমের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলুন। যারা বারবার মিথ্যা ছড়ায়, তাদের দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে।”
ইউনেস্কো প্রতিনিধি সুসান ভাইজ জানান, বৃহস্পতিবার প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পেশাগত মান উন্নয়নের দিকগুলোও বিশ্লেষণ করা হবে। “কোনটি কার্যকর হচ্ছে এবং কোনটি নয়—সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমরা সুপারিশ উপস্থাপন করব,” বলেন তিনি।
এছাড়া, ইউনেস্কোর জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা মেহদি বেনচেলাহ বলেন, “প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, বিশেষত নারী সাংবাদিকদের ঝুঁকি, হুমকি ও হয়রানি মোকাবিলায় করণীয় বিষয়েও সুপারিশ থাকবে। সরকার এবং বিচার বিভাগ এই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
প্রতিবেদনটি ইউএনডিপির ‘এসআইপিএস’ প্রকল্পের আওতায় এবং ইউনেস্কোর গণমাধ্যম উন্নয়ন ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে প্রণীত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
এই প্রতিবেদনকে ঘিরে গণমাধ্যম অঙ্গনে এক নতুন আলোচনার সূচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।






















