মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এক ঐতিহাসিক দিন। আজকের এই দিনে বিশ্বের কোটি কোটি শ্রমিক শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন সেই গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রাম, যেখানে ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার, বিশেষ করে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে রক্তাক্ত আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
শিকাগোর হে মার্কেটে তিন লাখেরও বেশি শ্রমিকের অংশগ্রহণে বিক্ষোভে রূপ নেওয়া সেই ধর্মঘটের সময় নির্মম পুলিশি দমন-পীড়নে প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন শ্রমিক। সেই রক্তস্নাত ইতিহাসই আজকের মে দিবসের ভিত্তি। পরবর্তীতে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বের বহু দেশ দিবসটি পালন করে আসছে।
২০২৫ সালের মহান মে দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো এ দেশ নতুন করে’—এই বার্তায় প্রতিফলিত হচ্ছে সম্মিলিত অংশীদারিত্বের শক্তি। শ্রমিক-মালিকের ঐক্য শুধু শিল্পক্ষেত্র নয়, দেশের সার্বিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি।
এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শ্রমিক ও মালিক পরস্পরের পরিপূরক। তাদের মেধা, শ্রম ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভর, উন্নত রাষ্ট্রে রূপ দিতে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন খাত যেমন পোশাক, কৃষি, নির্মাণ, প্রযুক্তি ও পরিবহন—সবখানে শ্রমিক-মালিকের সহযোগিতায় রয়েছে প্রবৃদ্ধির ছাপ।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মে দিবসে সকল কারখানা বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। শ্রমিক ছাঁটাই বা চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে শ্রম আইন মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নীতিগুলো ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের ২০তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের অংশ।
মে দিবস উপলক্ষে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রফেসর ইউনূস। সকাল বেলায় আয়োজিত র্যালি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণ এবং প্রাসঙ্গিক অনুষ্ঠানমালায় দিবসটি উদযাপন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে এবং টিভি চ্যানেলগুলো প্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠান ও সাক্ষাৎকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে এবং মানসম্মত প্রতিবেদন, ছবি ও প্রচারনার জন্য সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহকদের পুরস্কার দেওয়া হবে।
মে দিবসের বার্তা সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কাছে এসএমএস পাঠানো হবে—‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে, গড়বো এ দেশ নতুন করে’।
প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার; সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ। প্রকাশক কর্তৃক সিটি হার্ট, ৬৭ নয়াপল্টন, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিস : সিটি হার্ট, ৬৭ নয়াপল্টন, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ (অস্থায়ী কার্যালয়)। সাব-হেড অফিস: টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২