ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রক্ত দিয়ে ফেরার পথে সড়কে প্রাণ গেলো রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি রবিউলের কিশোরগঞ্জে নকল ঔষধ কারখানায় অভিযান ও জরিমানা ‎জলঢাকায় বুড়িতিস্তা নদী খনন প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুত চালুর ও মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুরে কবরস্থান থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার নির্বাচনে নাশকতার সন্দেহ মনোহরদীতে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে ননদের কামড়ে ছিড়ে গেছে ভাবীর ঠোঁট নিজ বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার মনোহরদীতে মোটরসাইকেল চাপায় মাদ্রাসা সুপার নিহত দেশের সবকিছুর ভিত্তি আইনশৃঙ্খলা শুরুতে সমস্যা থাকলেও এখন ভালো অবস্থা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় “শান্তিতে থাকবো” অপরকে শান্তিতে রাখবো সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগ শীতবস্ত্র বিতরণ

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে বিতর্ক, অবশেষে দুঃখপ্রকাশ

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫ ১১২ বার পড়া হয়েছে

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে বিতর্ক, অবশেষে দুঃখপ্রকাশ

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর ‘ধর্ষণ’ শব্দ পরিহারের আহ্বান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন প্রসঙ্গে আলোচনার সময় ধর্ষণকে বৃহত্তর নির্যাতনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তবে তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “আমি দুটি শব্দ একদম অপছন্দ করি, তার মধ্যে একটি হলো ধর্ষণ। অনুরোধ করব, আপনারা এটি ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে নারী নির্যাতন বা নিপীড়ন বলুন। আমাদের আইনেও নারী ও শিশু নির্যাতন বলা হয়েছে। যে শব্দগুলো শুনতে খারাপ লাগে, সেগুলো এড়িয়ে চলি।”

কিন্তু তার এই বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, “ধর্ষণ শব্দটি পরিহারের পরামর্শ দেওয়ায় ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যে বয়সেই হোক না কেন—ধর্ষণ, ধর্ষণই। এটি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যা যথাযথ ভাষায় প্রকাশ করা প্রয়োজন। শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা লঘু করার কোনো সুযোগ নেই।”

এদিকে, কমিশনারের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নারী ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা পাঁচটি এনজিও—ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), সেভ দ্য চিলড্রেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “ধর্ষণকে ধর্ষণই বলতে হবে। সঠিক ভাষা প্রয়োগ না হলে, আইন প্রয়োগেও দুর্বলতা আসবে।”

সমালোচনার মুখে ডিএমপি কমিশনারের দুঃখ প্রকাশ পরিস্থিতি শান্ত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যে বিতর্ক, অবশেষে দুঃখপ্রকাশ

আপডেট সময় : ০৮:০১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মার্চ ২০২৫

মোঃ মকবুলার রহমান নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর ‘ধর্ষণ’ শব্দ পরিহারের আহ্বান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আজ সোমবার ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন প্রসঙ্গে আলোচনার সময় ধর্ষণকে বৃহত্তর নির্যাতনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছি। আমার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তবে তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। গত শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “আমি দুটি শব্দ একদম অপছন্দ করি, তার মধ্যে একটি হলো ধর্ষণ। অনুরোধ করব, আপনারা এটি ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে নারী নির্যাতন বা নিপীড়ন বলুন। আমাদের আইনেও নারী ও শিশু নির্যাতন বলা হয়েছে। যে শব্দগুলো শুনতে খারাপ লাগে, সেগুলো এড়িয়ে চলি।”

কিন্তু তার এই বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, “ধর্ষণ শব্দটি পরিহারের পরামর্শ দেওয়ায় ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যে বয়সেই হোক না কেন—ধর্ষণ, ধর্ষণই। এটি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যা যথাযথ ভাষায় প্রকাশ করা প্রয়োজন। শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা লঘু করার কোনো সুযোগ নেই।”

এদিকে, কমিশনারের বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নারী ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা পাঁচটি এনজিও—ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), সেভ দ্য চিলড্রেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, “ধর্ষণকে ধর্ষণই বলতে হবে। সঠিক ভাষা প্রয়োগ না হলে, আইন প্রয়োগেও দুর্বলতা আসবে।”

সমালোচনার মুখে ডিএমপি কমিশনারের দুঃখ প্রকাশ পরিস্থিতি শান্ত করতে পারবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।