ফেনী ছাগলনাইয়া মাদক সেবন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নিহত ১ জন, ৩ জন গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০২:১৭:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২১৬ বার পড়া হয়েছে

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার ঢাকা:
ফেনী ছাগলনাইয়া মাদক সেবন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ধরে বেলাল নামে নিহত ১ জন, ৩ জনকে গ্রেফতার করেন ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ এবং তিন দিনের রিমান্ডে।
ছাগলনাইয়া উপজেলার দক্ষিণ সতর গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের বেলাল হোসেন মোচ্ছেদী (২১) মাদক সেবন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছে ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ।
মৃত বেলালের তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নিজেদের মধ্যে মারামারির কথা তাঁরা স্বীকার করেছে, তবে কার মারধরে বেলাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে তা স্বীকার করেনি কেউ এবং অস্বীকার করেন ।
আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসা বাদের জন্য ২৮ই ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে পুলিশ ৩ আসামিকে ফেনীর দায়েরা জজ আদালতে পাঠানো হয় । শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছাগলনাইয়ার আমলি আদালত অপরাজিতা আসামি আসলাম উদ্দিন ও রাফিকুল ইসলাম হৃদয়ের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বুধবার রাতে বেলাল হোসেনের বাবা নুরুল আলম মিন্টু ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা ২/৩ জনকে আসামি করে ছাগলনাইয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ বুধবার রাতে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ছাগলনাইয়া পৌরসভার দক্ষিণ সতর ২ নং ওয়ার্ডের আলি আহাম্মদ ভেন্ডার বাড়ির আলাউদ্দিনের ছেলে আসলাম উদ্দিন (২২) একই ওয়ার্ডের মোচ্ছেদী বাড়ির মৃত নুর হোসেনের ছেলে রাফিকুল ইসলাম হৃদয় (২৩) এবং ফুলতলী আলমগীরের বাড়ির আলমগীরের ছেলে জিহাদ উদ্দিন (১৮)।
পুলিশ সূএে জানা যায়, মৃত বেলাল হোসেন সহ গ্রেফতার ৩ জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল তাঁরা সবাই মাদক সেবন করতেন।
বেলাল হোসেন ছাগলনাইয়া দক্ষিণ সতর এলাকার মোচ্ছেদী বাড়ির নুরুল আলম মিন্টু মোচ্ছেদীর একমাত্র ছেলে। বেলালের বয়স যখন ৪ বছর তখন তার মায়ের সংসার বিচ্ছিদ হয়।
আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ সালাউদ্দিন রাশেদ জানান, মঙ্গলবার রাত ১১ টা দশ মিনিটে ঘর থেকে বের হয়ে তুলাতুলি বাজারে যায় বেলাল হোসেন মোচ্ছেদী। এসময় সেখানে অপেক্ষা করছিল তাঁর বন্ধু আসলাম ও রাফিকুল ইসলাম হৃদয়। তাঁরা ৩ জন মিলে তুলাতলি বাজারের দোকানের পেছনে বসে ইয়াবা সেবন করে। ইয়াবা সেবনের আগে তাঁদের আরেক বন্ধু জিহাদ গাজা সেবনের জন্য আসলামকে টাকা দেয়, গাজা নিয়ে তাকে দক্ষিণ সতর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আসতে বলেছিল জিহাদ। কিন্তু বেলাল ও রাফিকুলের সঙ্গে ইয়াবা সেবন করায় জিহাদের জন্য গাজা কিনে সেখানে যায়নি আসলাম। জিহাদ বারবার ফোন করলেও আসলাম ফোন রিসিভ করেনি। বারবার ফোন করায় ক্ষিপ্ত হয় আসলাম। ইয়াবা সেবন করার সময় তাঁরা ৩ জন যুক্তি করে জিহাদকে শায়েস্তা করার। তাঁর মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করার প্ল্যান করে তারা। তখন রাত ৩ টার কাছাকাছি। পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমে আসলাম যায় জিহাদের কাছে। পরে বেলাল ও রাফিকুল সেখানে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার ৩ জন এখনও পরিষ্কার ভাবে মুখ খুলেনি যে সুনির্দিষ্ট কার আঘাতে বেলাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। বারবার জিজ্ঞাসা করার পরও তারা ওই প্রশ্নের জবাব এডিয়ে যায়। বেলালের মৃত্যুর বিষয়ে তারা একেক সময় একেক কথা বলেছে। তাদের দেয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
আরও অধিক জিজ্ঞাসা বাদের জন্য তাঁদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত ২ জনের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। জিজ্ঞাসা বাদে মৃত্যুর মূল রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার রাত ১১ টা দশ মিনিটে ঘর থেকে বের হয় বেলাল হোসেন। রাতে আর ঘরে ফিরেনি। সকালে বাড়ির পাশে ফসলি জমিতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
বেলাল হোসেনের চার বছর বয়সে তার মায়ের সংসার বিচ্ছিন্ন হয়। সে থেকে বাবার কাছেই ছিল। বেলাল ছাগলনাইয়া বাজারে একটি ক্রোকারিজ দোকানে চাকরি করতেন।
এদিকে বুধবার রাতে বেলাল হোসেনকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়।
























