ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিকাশ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সাব্বিরসহ আটক ৫ তিন দিন ব্যাপী আক্কেলপুরে কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন নড়াইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দু’জনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর পাটখেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ খোকসায় গড়াই নদীতে গোসল করতে নেমে স্কুল ছাত্র নিখোঁজ মানুষিক ভারসাম্যহীন পুলিশ সদস্য গুলি করে সহকর্মীকে মামলা তুলে না নেওয়ায় কিশোর গ্যাং লিডার বরিশ্যাইল্লা শান্ত বাহিনীর হামলায় যুবক হত্যা চেষ্টা থানায় অভিযোগ। রংপুর সুখি সমৃদ্ধি উন্নত স্মার্ট রংপুরে পরিনত হবে: জেলা প্রশাসক নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের পরিচয়পর্ব সভা অনুষ্ঠিত নওগাঁর নিয়ামতপুর হতে ১০১ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চে জুতা পায়ে এমপিসহ অতিথিরা

মোঃ কবির হোসেন জামালপুর
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৮৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুর সদর উপজেলার বটতলা উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানিয়ে আজ রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই মঞ্চে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি-শিক্ষক সবাই জুতা পায়েও ওঠেন। ভাষার মাসে এমন ঘটনায় অনেকে ক্ষুদ্ধ হন।
অনুষ্ঠান উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানানো হয়েছে। সেখানে মূল শহীদ মিনারটি কাপড় দিয়ে পেছনে ফেলা হয়েছে। আর বেদিতে মঞ্চ করা হয়েছে। অতিথিদের সামনে বিশাল টেবিল এবং চেয়ার দেওয়া হয়েছে। পাশেই বক্তব্য দেওয়ার জন্যে মাইকের স্ট্যান্ড দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০ টার দিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেনসহ সকল অতিথি একে একে সবাই জুতা পায়ে মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসেন। বেদিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য লোকজনকেও জুতা পায়ে দেখা যায়। অনুষ্ঠানটি দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে শেষ হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো.মোজাফফর হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ.কে আজাদ বাদল ও সদস্য মো.আবুল কায়ের খোকা মাস্টার, বাঁশচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আব্দুল আলীম, সহসভাপতি মো.মাহামুদুল হাসান বাচ্চু, সহসভাপতি মো.শাহজাহান আলী, সহসভাপতি মো.সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
জামালপুরের ভাষা ও মুক্তি সংগ্রাম গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন,‘ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারিতে শদীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়া অন্যকোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। জুতা নিয়ে শহীদ মিনারে পদচারণা করা ভাষা শহীদদের প্রতি অবমাননা এবং আইন অমান্য করা। যাঁরা এ ধরণের আচরণ করবে, তাঁদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিৎ।’
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম বলেন,‘অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আর সবাইতো সেখানে জুতা পায়ে দিয়ে উঠেছে, তাই আমিও উঠেছি।
বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বলেন,‘প্রত্যেক বছরই সেখানে অনুষ্ঠান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সেখানে করা হয়েছে। প্রধান অতিথিরাই যদি উঠে, তাহলে আর কি।
জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো.মোজাফফর হোসেন বলেন,‘সেটা যে শহিদ মিয়ান, আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ভেবেছি-সেটা একটি ভাঙা মঞ্চ। কেউ যদি আমাকে বলতো, সেটা শহিদ মিনার, তাহলে আমি জুতা নিয়ে উঠতাম না। প্রয়োজনে আমি সেখান থেকে নেমে যেতাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চে জুতা পায়ে এমপিসহ অতিথিরা

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

জামালপুর সদর উপজেলার বটতলা উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানিয়ে আজ রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই মঞ্চে জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি-শিক্ষক সবাই জুতা পায়েও ওঠেন। ভাষার মাসে এমন ঘটনায় অনেকে ক্ষুদ্ধ হন।
অনুষ্ঠান উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে শহীদ মিনারের বেদিতে মঞ্চ বানানো হয়েছে। সেখানে মূল শহীদ মিনারটি কাপড় দিয়ে পেছনে ফেলা হয়েছে। আর বেদিতে মঞ্চ করা হয়েছে। অতিথিদের সামনে বিশাল টেবিল এবং চেয়ার দেওয়া হয়েছে। পাশেই বক্তব্য দেওয়ার জন্যে মাইকের স্ট্যান্ড দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০ টার দিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো. মোজাফফর হোসেনসহ সকল অতিথি একে একে সবাই জুতা পায়ে মঞ্চে উঠে চেয়ারে বসেন। বেদিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য লোকজনকেও জুতা পায়ে দেখা যায়। অনুষ্ঠানটি দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে শেষ হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো.মোজাফফর হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো.আব্দুল জলিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ.কে আজাদ বাদল ও সদস্য মো.আবুল কায়ের খোকা মাস্টার, বাঁশচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আব্দুল আলীম, সহসভাপতি মো.মাহামুদুল হাসান বাচ্চু, সহসভাপতি মো.শাহজাহান আলী, সহসভাপতি মো.সরোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো.আব্দুল লতিফ প্রমুখ।
জামালপুরের ভাষা ও মুক্তি সংগ্রাম গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন,‘ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারিতে শদীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ছাড়া অন্যকোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। জুতা নিয়ে শহীদ মিনারে পদচারণা করা ভাষা শহীদদের প্রতি অবমাননা এবং আইন অমান্য করা। যাঁরা এ ধরণের আচরণ করবে, তাঁদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া উচিৎ।’
জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক ও বটতলা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো.শফিকুল আলম বলেন,‘অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। আর সবাইতো সেখানে জুতা পায়ে দিয়ে উঠেছে, তাই আমিও উঠেছি।
বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হুদা বলেন,‘প্রত্যেক বছরই সেখানে অনুষ্ঠান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সেখানে করা হয়েছে। প্রধান অতিথিরাই যদি উঠে, তাহলে আর কি।
জামালপুর-৫ (সদর) আসনের সাংসদ মো.মোজাফফর হোসেন বলেন,‘সেটা যে শহিদ মিয়ান, আমি বুঝতেই পারিনি। আমি ভেবেছি-সেটা একটি ভাঙা মঞ্চ। কেউ যদি আমাকে বলতো, সেটা শহিদ মিনার, তাহলে আমি জুতা নিয়ে উঠতাম না। প্রয়োজনে আমি সেখান থেকে নেমে যেতাম।