ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রবাস জীবন হে ফাগুন দানিয়াল হত্যা মামলার প্রধান আসামী অনিক গ্রেফতার দেশের অন্যতম চরমোনাইর ফাল্গুনের ৩ দিনব্যাপী বাৎসরিক মাহফিল শুরু বুধবার নড়াইলে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জের অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পেয়েছে ডিবি রাজারহাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ২১শে ফেব্রুয়ারি’র প্রথম প্রহরে পুষ্পার্ঘ অর্পণ রক্তে কেনা ভাষায় হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখে দিতে হবে: ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তর নড়াইলে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে লাখো প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ নকলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

রংপুর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত

হীমেল কুমার মিত্র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৪:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মার্চ ২০২৩ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জেলা প্রশাসন, রংপুর এর উদ্যোগে আজ (৭ মার্চ) মঙ্গলবার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে সকাল ৯টার দিকে নগরীর ডিসি মোড়স্থ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচি পালিত হয়।

এসময় বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সাবিরুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর। জেলা প্রশাসনের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ড. চিত্রলেখা নাজনীন, জেলা প্রশাসক, রংপুর।

জেলা প্রশাসন, রংপুর এর আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের জনগণ।
এরপর বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে সশস্ত্র সালাম প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৯৭১। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিনটি শোষণের শেকলে অবরুদ্ধ বাঙ্গালির মুক্তির পথ খুলে দেয়ার দিন। রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত ১০ লাখ মানুষের হৃদয়ে। এক হাজার ১০৮ শব্দে ১৮ মিনিটের এ ভাষণটি উজ্জীবিত করেছিল ২৩ বছরের বঞ্চিত, অবহেলিত ও শোষিত বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে।
’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮-এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা মামলায় জড়ানো এবং ’৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় – প্রত্যেকটি বিষয়কে শক্তি হিসেবে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ তার ঐতিহাসিক ভাষণটি দিয়েছিলেন, যা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। এটি পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে ইউনেস্কোর ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
দেশবাসীকে জাগ্রত করার প্রশ্নে, নিপীড়িত জনতার মুক্তির প্রশ্নে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিঃসন্দেহে ছিল বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করার কবিতা।
ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে একদিকে যখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ চলছিল, ঠিক অন্যদিকে লেখা হচ্ছিল পাকিস্তানি শাসকদের পতনের ইতিহাস। ভাষণে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এর পরেই অকুতোভয় বাঙালি এবং সর্বস্তরের মানুষ শক্তি পেয়েছিল মুক্তির চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্যে। তাই বলাই যায়, ৭ মার্চ এবং স্বাধীনতা যেন একই সূত্রে গাঁথা।
৭০-এর নির্বাচনে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের দাবিদার হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক কুচক্রীদের অপপ্রচারে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ না জানিয়ে নানা টালবাহানা করছিল। নানা বাহানায় সময়ক্ষেপণ করছিল, আর নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য এবং অস্ত্র পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) নিয়ে আসছিল।
এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসীম ধৈর্য আর প্রজ্ঞা নিয়ে ধাপে ধাপে ইতিহাসের পথে পা ফেলেছিলেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তিনি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় দেয়া ভাষণে জনগণকে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, জনগণকে যেভাবে একতাবদ্ধ করেছিলেন, উদ্বেলিত করেছিলেন, তা মানব জাতির সমগ্র ইতিহাসে বিরল।
পূর্ব পাকিস্তান সামরিক সরকারের তৎকালীন তথ্য কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিক তার ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থে লিখেছেন: পাকিস্তানি সামরিক গোষ্ঠী চিন্তিত হয়ে কূটকৌশলের আশ্রয় নিল। ৭ মার্চের একদিন আগে, অর্থাৎ ৬ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান টেলিফোনে কথা বলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। জেনারেল ইয়াহিয়া তার দীর্ঘ টেলিফোন আলাপে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বলার চেষ্টা করেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) যেন এমন কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করেন, যেখান থেকে ফিরে আসার উপায় আর না থাকে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের আংশিক ব্যাখ্যা করলে প্রতীয়মান হয়, তিনি সেদিন যুদ্ধের ঘোষণা যেমন পরোক্ষভাবে প্রদান করেন, আবার যুদ্ধে কীভাবে জয়ী হতে হবে, সে ব্যাপারেও বক্তব্য রাখেন। স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈধ সরকার প্রধানের মতো একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপর যদি বেতন দেয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের ওপর আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট, যা যা আছে, সবকিছু আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।’
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সে সময় এমন ছিল যে, কোনো কোনো বিদেশি পত্রিকাও তখন জানিয়েছিল, ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়তো পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন। ৬ মার্চ ’৭১ লন্ডনের ডেইলি টে
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার আর কিছুই বাকি রইল না। তারপরও বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশকে স্বাধীন করার যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা পরিপূর্ণতা পায় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানের পতন কিংবা বাঙালির স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা।

পাকিস্তানিদের সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এবং পাকিস্তানি সেনারা তার দিকে বন্দুকের নল তাক করে আছে জেনেও বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত কৌশলে সমগ্র বাঙালি জাতির আবেগের কথাটি প্রকাশ করে ফেলেন তার ৭ মার্চের বক্তব্যে। বঙ্গবন্ধু বলেই ফেললেন
তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব – এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

উল্লেখ্য,২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে ইউনেস্কোর ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’
(বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রংপুর জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ পালিত

আপডেট সময় : ০৪:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ মার্চ ২০২৩

জেলা প্রশাসন, রংপুর এর উদ্যোগে আজ (৭ মার্চ) মঙ্গলবার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে সকাল ৯টার দিকে নগরীর ডিসি মোড়স্থ বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচি পালিত হয়।

এসময় বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সাবিরুল ইসলাম, বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর। জেলা প্রশাসনের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ড. চিত্রলেখা নাজনীন, জেলা প্রশাসক, রংপুর।

জেলা প্রশাসন, রংপুর এর আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের জনগণ।
এরপর বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে সশস্ত্র সালাম প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৯৭১। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিনটি শোষণের শেকলে অবরুদ্ধ বাঙ্গালির মুক্তির পথ খুলে দেয়ার দিন। রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত ১০ লাখ মানুষের হৃদয়ে। এক হাজার ১০৮ শব্দে ১৮ মিনিটের এ ভাষণটি উজ্জীবিত করেছিল ২৩ বছরের বঞ্চিত, অবহেলিত ও শোষিত বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে।
’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮-এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, আগরতলা মামলায় জড়ানো এবং ’৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় – প্রত্যেকটি বিষয়কে শক্তি হিসেবে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ তার ঐতিহাসিক ভাষণটি দিয়েছিলেন, যা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। এটি পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে ইউনেস্কোর ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
দেশবাসীকে জাগ্রত করার প্রশ্নে, নিপীড়িত জনতার মুক্তির প্রশ্নে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিঃসন্দেহে ছিল বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করার কবিতা।
ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে একদিকে যখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ চলছিল, ঠিক অন্যদিকে লেখা হচ্ছিল পাকিস্তানি শাসকদের পতনের ইতিহাস। ভাষণে বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এর পরেই অকুতোভয় বাঙালি এবং সর্বস্তরের মানুষ শক্তি পেয়েছিল মুক্তির চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্যে। তাই বলাই যায়, ৭ মার্চ এবং স্বাধীনতা যেন একই সূত্রে গাঁথা।
৭০-এর নির্বাচনে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিজয়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের দাবিদার হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক কুচক্রীদের অপপ্রচারে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ না জানিয়ে নানা টালবাহানা করছিল। নানা বাহানায় সময়ক্ষেপণ করছিল, আর নিরস্ত্র বাঙালিদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য এবং অস্ত্র পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) নিয়ে আসছিল।
এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসীম ধৈর্য আর প্রজ্ঞা নিয়ে ধাপে ধাপে ইতিহাসের পথে পা ফেলেছিলেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তিনি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় দেয়া ভাষণে জনগণকে যে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন, জনগণকে যেভাবে একতাবদ্ধ করেছিলেন, উদ্বেলিত করেছিলেন, তা মানব জাতির সমগ্র ইতিহাসে বিরল।
পূর্ব পাকিস্তান সামরিক সরকারের তৎকালীন তথ্য কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিক তার ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থে লিখেছেন: পাকিস্তানি সামরিক গোষ্ঠী চিন্তিত হয়ে কূটকৌশলের আশ্রয় নিল। ৭ মার্চের একদিন আগে, অর্থাৎ ৬ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান টেলিফোনে কথা বলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা, আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। জেনারেল ইয়াহিয়া তার দীর্ঘ টেলিফোন আলাপে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বলার চেষ্টা করেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) যেন এমন কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করেন, যেখান থেকে ফিরে আসার উপায় আর না থাকে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের আংশিক ব্যাখ্যা করলে প্রতীয়মান হয়, তিনি সেদিন যুদ্ধের ঘোষণা যেমন পরোক্ষভাবে প্রদান করেন, আবার যুদ্ধে কীভাবে জয়ী হতে হবে, সে ব্যাপারেও বক্তব্য রাখেন। স্বাধীন রাষ্ট্রের বৈধ সরকার প্রধানের মতো একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপর যদি বেতন দেয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোকদের হত্যা করা হয়, তোমাদের ওপর আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট, যা যা আছে, সবকিছু আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।’
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সে সময় এমন ছিল যে, কোনো কোনো বিদেশি পত্রিকাও তখন জানিয়েছিল, ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়তো পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন। ৬ মার্চ ’৭১ লন্ডনের ডেইলি টে
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করার আর কিছুই বাকি রইল না। তারপরও বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশকে স্বাধীন করার যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা পরিপূর্ণতা পায় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানের পতন কিংবা বাঙালির স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা।

পাকিস্তানিদের সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এবং পাকিস্তানি সেনারা তার দিকে বন্দুকের নল তাক করে আছে জেনেও বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত কৌশলে সমগ্র বাঙালি জাতির আবেগের কথাটি প্রকাশ করে ফেলেন তার ৭ মার্চের বক্তব্যে। বঙ্গবন্ধু বলেই ফেললেন
তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব – এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

উল্লেখ্য,২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে ইউনেস্কোর ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’
(বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি পায়।