ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রবাস জীবন হে ফাগুন দানিয়াল হত্যা মামলার প্রধান আসামী অনিক গ্রেফতার দেশের অন্যতম চরমোনাইর ফাল্গুনের ৩ দিনব্যাপী বাৎসরিক মাহফিল শুরু বুধবার নড়াইলে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জের অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পেয়েছে ডিবি রাজারহাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে ২১শে ফেব্রুয়ারি’র প্রথম প্রহরে পুষ্পার্ঘ অর্পণ রক্তে কেনা ভাষায় হিন্দুত্ববাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখে দিতে হবে: ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তর নড়াইলে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে লাখো প্রদীপ জ্বালিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ নকলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

মহেশখালীতে হাসি ফুটেছে পানচাষিদের মুখে 

মফিজুর রহমান, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মফিজুর রহমান, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এখানকা অধিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পেশা পান চাষ। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এর ভূমি পান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। মহেশখালীর পানের বিশেষত্ব হলো তার মিষ্টি স্বাদ, যার কারণে এই পান সারাদেশে বিখ্যাত।

এক সময় মহেশখালীর মিষ্টি পান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। এখানকার পানের সুনাম দেশের সীমানা পেরিয়ে এশিয়া মহাদেশ ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকাতেও ছড়িয়ে রয়েছে। কারও কারও মতে আফ্রিকা মহাদেশের কিছু কিছু দেশও বাদ যায় না। সমগ্র বাংলাদেশের দুই তৃতীয়াংশ মিষ্টি পান মহেশখালী দ্বীপে উৎপাদিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে উৎপাদিত বাংলা, মিঠা, সাচি, কর্পুরী, গ্যাচ, নাতিয়াবাসুত, উজালী, মহানলী, চেরফুলী, ভাবনা, সন্তোষী, জাইলো, ভাওলা, ঝালি প্রভৃতি জাতের মধ্যে মহেশখালীর মিষ্টি পান উল্লেখযোগ্য।

মহেশখালীর পানের বরজ সাধারণত দুই ধরনের পাহাড়ি বরজ এবং বিল বরজ। উপজেলার বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের ঢালু ও সমতল কৃষি জমিতে যুগ যুগ ধরে পান চাষ করে আসছে স্থানীয় পানচাষিরা। জমির শ্রেণি অনুসারে পাহাড়ি এলাকার ভূমিতে পান চাষ দুই/তিন বছর স্থায়ী হলেও সমতল জমিতে পান চাষ হয় মাত্র ছয় মাস। সমতল জমিতে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে মে/জুনে শেষ হয়।

অপরদিকে পাহাড়ি ঢালু জমিতে পান চাষ হয় বছরের যে কোন সময়। এমনটাই জানান স্থানীয় পানচাষিরা। পান চাষের উপকরণ হলো: ছন, উল, বাঁশ, কীটনাশক, সার, খৈল ইত্যাদি।

৩০ জানুয়ারী (সোমবার) হোয়ানক ইউনিয়নের টাইমবাজার পান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বরজ থেকে সদ্য ভেঙে আনা থরেথরে পান নিয়ে বসে রয়েছেন অনেক চাষি।

কক্সবাজারের চকরিয়া, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, পটিয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যপারীরা এসব বাজার থেকে পান সংগ্রহ করে থাকে। তারপর ট্রাকবোঝাই করে পাঠিয়ে দেয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এসব পাইকারি বাজারে পানের বড় পান প্রতি বিরা বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। মহেশখালীর মিষ্টি পান চাষিদের মুখে এবার হাসি ফুটেছে। বেশি মুনাফা হওয়ায় মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক চাষিরা পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়া গ্রামের পানচাষি সাইফুল ইসলাম ও জোনাইদ সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানের বর্তমান দর আগের তুলনায় অনেক ভালো। অর্থাৎ যে বড় পান বিক্রি হতো ১৫০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকায় আর মাঝারি পান বিক্রি হতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। ঠিক সেই পান বর্তমান বিক্রি হচ্ছে বড় পান প্রতি বিরা ৬০০ থেকে ৫০০ টাকা ও মাঝারি পান ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর ছোট ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

তারা জানান, পানের বরজ তৈরি করতে যে টাকা খরচ হয়েছিল সেই টাকা উঠে এসে প্রচুর লাভবান হচ্ছে আর অনেকের শীঘ্রই উঠে আসবে। পানের বর্তমান দর স্থির থাকলে পান বিক্রি করে পানচাষিরা আরও অনেক লাভবান হবে। চলমান পানের দর নিয়ে তারা খুবিই সন্তুষ্ট।

তারা আরও জানান, দেশের বাইরে থেকে পান আমদানি না হলে তারা আরও লাভবান হবে। বর্তামান স্বস্তি ফিরেছে পান বাজারে আর হাসি ফুটেছে পান চাষিদের মুখে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মহেশখালীতে হাসি ফুটেছে পানচাষিদের মুখে 

আপডেট সময় : ০৬:১৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

মফিজুর রহমান, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এখানকা অধিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পেশা পান চাষ। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এর ভূমি পান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। মহেশখালীর পানের বিশেষত্ব হলো তার মিষ্টি স্বাদ, যার কারণে এই পান সারাদেশে বিখ্যাত।

এক সময় মহেশখালীর মিষ্টি পান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। এখানকার পানের সুনাম দেশের সীমানা পেরিয়ে এশিয়া মহাদেশ ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকাতেও ছড়িয়ে রয়েছে। কারও কারও মতে আফ্রিকা মহাদেশের কিছু কিছু দেশও বাদ যায় না। সমগ্র বাংলাদেশের দুই তৃতীয়াংশ মিষ্টি পান মহেশখালী দ্বীপে উৎপাদিত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে উৎপাদিত বাংলা, মিঠা, সাচি, কর্পুরী, গ্যাচ, নাতিয়াবাসুত, উজালী, মহানলী, চেরফুলী, ভাবনা, সন্তোষী, জাইলো, ভাওলা, ঝালি প্রভৃতি জাতের মধ্যে মহেশখালীর মিষ্টি পান উল্লেখযোগ্য।

মহেশখালীর পানের বরজ সাধারণত দুই ধরনের পাহাড়ি বরজ এবং বিল বরজ। উপজেলার বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের ঢালু ও সমতল কৃষি জমিতে যুগ যুগ ধরে পান চাষ করে আসছে স্থানীয় পানচাষিরা। জমির শ্রেণি অনুসারে পাহাড়ি এলাকার ভূমিতে পান চাষ দুই/তিন বছর স্থায়ী হলেও সমতল জমিতে পান চাষ হয় মাত্র ছয় মাস। সমতল জমিতে সেপ্টেম্বর/অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে মে/জুনে শেষ হয়।

অপরদিকে পাহাড়ি ঢালু জমিতে পান চাষ হয় বছরের যে কোন সময়। এমনটাই জানান স্থানীয় পানচাষিরা। পান চাষের উপকরণ হলো: ছন, উল, বাঁশ, কীটনাশক, সার, খৈল ইত্যাদি।

৩০ জানুয়ারী (সোমবার) হোয়ানক ইউনিয়নের টাইমবাজার পান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বরজ থেকে সদ্য ভেঙে আনা থরেথরে পান নিয়ে বসে রয়েছেন অনেক চাষি।

কক্সবাজারের চকরিয়া, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, পটিয়া, বাঁশখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যপারীরা এসব বাজার থেকে পান সংগ্রহ করে থাকে। তারপর ট্রাকবোঝাই করে পাঠিয়ে দেয় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এসব পাইকারি বাজারে পানের বড় পান প্রতি বিরা বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। মহেশখালীর মিষ্টি পান চাষিদের মুখে এবার হাসি ফুটেছে। বেশি মুনাফা হওয়ায় মহেশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক চাষিরা পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের পশ্চিম পুঁইছড়া গ্রামের পানচাষি সাইফুল ইসলাম ও জোনাইদ সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানের বর্তমান দর আগের তুলনায় অনেক ভালো। অর্থাৎ যে বড় পান বিক্রি হতো ১৫০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকায় আর মাঝারি পান বিক্রি হতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। ঠিক সেই পান বর্তমান বিক্রি হচ্ছে বড় পান প্রতি বিরা ৬০০ থেকে ৫০০ টাকা ও মাঝারি পান ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর ছোট ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

তারা জানান, পানের বরজ তৈরি করতে যে টাকা খরচ হয়েছিল সেই টাকা উঠে এসে প্রচুর লাভবান হচ্ছে আর অনেকের শীঘ্রই উঠে আসবে। পানের বর্তমান দর স্থির থাকলে পান বিক্রি করে পানচাষিরা আরও অনেক লাভবান হবে। চলমান পানের দর নিয়ে তারা খুবিই সন্তুষ্ট।

তারা আরও জানান, দেশের বাইরে থেকে পান আমদানি না হলে তারা আরও লাভবান হবে। বর্তামান স্বস্তি ফিরেছে পান বাজারে আর হাসি ফুটেছে পান চাষিদের মুখে।