ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিশু অপহরণ মামলার যাবজ্জীবন আসামি ১৩ বছর পর গ্রেফতার যুগান্তরের ২৫ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান লালপুরে মেধাবীদের শিক্ষাবৃত্তি ও অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ মাদকমুক্ত ইন্দুরকানী গড়তে আমাদের করণীয় শীর্ষক’ আলোচনা সভা রিয়াদে Dxnএর আয়োজনে আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত ওআইসি সদস্য দেশগুলোর তথ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী নড়াইলে হারিয়ে যাওয়া ২০টি মোবাইল আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগীদের নিকট হস্তান্তর পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব অবহেলা পাঁচ শিক্ষককে অব্যাহতি ও দুই শিক্ষর্থীকে বহিস্কার ইসদাইরে অবৈধ ক্যাবল ব্যবসাায়ী বহিস্কৃত যুবলীগ নেতার ফারুক আহমেদ শিমুল ও মনিরুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অফিস সীলগালা লালপুরে বিএনপির চার নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত

পতাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সেলাই মেশিন আজও গৌরবের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত আছে

হীমেল কুমার মিত্র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৭১-এর মার্চে পুরো পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর ছিল। বাঙালির স্বাধীনতার সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১ম ধাপ ছিল ২ মার্চ ঢাকার রেসকোর্সে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন। সে পতাকার আদলে ১৭ মার্চ কুড়িগ্রামেও উত্তোলন করা হয়েছিল জাতীয় পতাকা। সেদিন পতাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সেলাই মেশিন আজও গৌরবের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আনা পতাকার একটি নমুনা সফিকুল ইসলাম চৌধুরীর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন মন্জু মণ্ডল। সেই পতাকার আদলে নতুন পতাকা তৈরি করে তা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেন কুড়িগ্রামের ছাত্রনেতারা। কিন্তু অভিজ্ঞ দর্জি ছাড়া এ কাজ সহজ ছিল না। আবার অভিজ্ঞ হলেও অনেকেই দণ্ডের ভয়ে সেটি সেলাই করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে ১৬ মার্চ কুড়িগ্রামের তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা রুকুনুদ্দৌল্লা কুড়িগ্রাম বাজারের দর্জি পলাশবাড়ীর মজিবর রহমানকে দিয়ে অতি গোপনে মানচিত্রখচিত পতাকাটি সেলাই করে নেন। পরদিন ১৭ মার্চ সেটি চিলড্রেন পার্কে ছাত্রনেতা শুভাংশু চক্রবর্তী, আমিনুল ইসলাম, মন্জু মণ্ডল, রুকুনুদ্দৌল্লা মণ্ডল, তপন কুমার রুদ্দ, মৃণাল কান্তি রায়, হারুন-অর-রশিদ লাল, নুর-ই-ইসলাম, মোকারব হোসেন, সাচ্চু, কাজল, সাজু ও নুর উন নবী উপস্থিত থেকে মোস্তফা কামাল তুষার নামে তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তার শিশুছেলেকে দিয়ে সেই পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন।

সেদিন ছাত্রনেতারা নিজেদের শরীরে সুঁই বিদ্ধ করে রক্তশপথ নিয়েছিলেন। সেদিন মজিবর দর্জি এ সেলাই মেশিন দিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা তৈরি করেছিলেন, যা কুড়িগ্রামে উত্তোলন করা প্রথম জাতীয় পতাকা। সেলাই মেশিনটি তার ছেলে মোজাম্মেল হক উত্তরবঙ্গ জাদুঘরে উপহার দিয়েছেন, যা নতুন শহরে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের অস্থায়ী প্রদর্শনী কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের সংগ্রহশালা এ জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন।

তিনি জানান, কুড়িগ্রামে ঢাকা থেকে আনা পতাকার আদলে যে পতাকাটি বানানো হয়েছিল, তা জাদুঘরে রাখা এই সেলাই মেশিনে তৈরি। ১৯৭১ সালে জেলা শহরের পলাশবাড়ী এলাকার দর্জি মজিবর রহমান এটি তৈরি করেছিলেন। দর্জির মৃত্যুর পর সেলাই মেশিনটি ঘরের ছাদে রাখা ছিল। পরে দর্জি মজিবর রহমানের ছেলে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে সেলাই মেশিনটি সংগ্রহ করে জাদুঘরে রাখা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতায় পতাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই এ সেলাই মেশিনটি খুবই জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পতাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সেলাই মেশিন আজও গৌরবের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত আছে

আপডেট সময় : ১১:২০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০২৩

১৯৭১-এর মার্চে পুরো পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর ছিল। বাঙালির স্বাধীনতার সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে ১ম ধাপ ছিল ২ মার্চ ঢাকার রেসকোর্সে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত পতাকা উত্তোলন। সে পতাকার আদলে ১৭ মার্চ কুড়িগ্রামেও উত্তোলন করা হয়েছিল জাতীয় পতাকা। সেদিন পতাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত সেলাই মেশিন আজও গৌরবের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে আনা পতাকার একটি নমুনা সফিকুল ইসলাম চৌধুরীর কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন মন্জু মণ্ডল। সেই পতাকার আদলে নতুন পতাকা তৈরি করে তা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেন কুড়িগ্রামের ছাত্রনেতারা। কিন্তু অভিজ্ঞ দর্জি ছাড়া এ কাজ সহজ ছিল না। আবার অভিজ্ঞ হলেও অনেকেই দণ্ডের ভয়ে সেটি সেলাই করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে ১৬ মার্চ কুড়িগ্রামের তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা রুকুনুদ্দৌল্লা কুড়িগ্রাম বাজারের দর্জি পলাশবাড়ীর মজিবর রহমানকে দিয়ে অতি গোপনে মানচিত্রখচিত পতাকাটি সেলাই করে নেন। পরদিন ১৭ মার্চ সেটি চিলড্রেন পার্কে ছাত্রনেতা শুভাংশু চক্রবর্তী, আমিনুল ইসলাম, মন্জু মণ্ডল, রুকুনুদ্দৌল্লা মণ্ডল, তপন কুমার রুদ্দ, মৃণাল কান্তি রায়, হারুন-অর-রশিদ লাল, নুর-ই-ইসলাম, মোকারব হোসেন, সাচ্চু, কাজল, সাজু ও নুর উন নবী উপস্থিত থেকে মোস্তফা কামাল তুষার নামে তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তার শিশুছেলেকে দিয়ে সেই পতাকাটি উত্তোলন করেছিলেন।

সেদিন ছাত্রনেতারা নিজেদের শরীরে সুঁই বিদ্ধ করে রক্তশপথ নিয়েছিলেন। সেদিন মজিবর দর্জি এ সেলাই মেশিন দিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা তৈরি করেছিলেন, যা কুড়িগ্রামে উত্তোলন করা প্রথম জাতীয় পতাকা। সেলাই মেশিনটি তার ছেলে মোজাম্মেল হক উত্তরবঙ্গ জাদুঘরে উপহার দিয়েছেন, যা নতুন শহরে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের অস্থায়ী প্রদর্শনী কার্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যের সংগ্রহশালা এ জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডভোকেট এস এম আব্রাহাম লিংকন।

তিনি জানান, কুড়িগ্রামে ঢাকা থেকে আনা পতাকার আদলে যে পতাকাটি বানানো হয়েছিল, তা জাদুঘরে রাখা এই সেলাই মেশিনে তৈরি। ১৯৭১ সালে জেলা শহরের পলাশবাড়ী এলাকার দর্জি মজিবর রহমান এটি তৈরি করেছিলেন। দর্জির মৃত্যুর পর সেলাই মেশিনটি ঘরের ছাদে রাখা ছিল। পরে দর্জি মজিবর রহমানের ছেলে মোজাম্মেল হকের কাছ থেকে সেলাই মেশিনটি সংগ্রহ করে জাদুঘরে রাখা হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতায় পতাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই এ সেলাই মেশিনটি খুবই জরুরি।