ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদুল ফিতরের দিনের ফজিলত, সুন্নত, করণীয় ও বর্জনীয় ইতালির ভেনিসে প্রথম এবং প্রাচীনতম ভেনিস বাংলা প্রেস ক্লাব ইতালির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বগুড়া শেরপুর নদী থেকে, এক বস্তা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার। মিরপুরে তিন শতাধিক পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করল উইনসাম স্মাইল ফাউন্ডেশন কুমারখালী ব্লাড ডোনেশনের ঈদ উপহার পৌঁছে গেল অসহায়দের বাড়ি বাড়ি রক্তের বন্ধন ঝাউগড়া শাখার নতুন কমিটি পরিচিতি সভার উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল বগুড়া শাহজাহানপুর উপজেলার চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান দুইটি আগ্নেয়  অস্ত্রসহ গ্রেফতার। গাজীপুর কাঁচামাল আড়্ৎদার মালিক গ্রুপ এর আয়োজনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যাকাতের বস্ত্র বিতরণ ২০২৪ অনুষ্ঠিত নড়াইলে পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার ৪ আমরা সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের নিয়ে রাজনীতি করিনা -হুইপ সানজিদা খানম

ঝালকাঠি নার্সিং কলেজে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে

এইচ এম নাসির উদ্দিন ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এইচ এম নাসির উদ্দিন ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কির্তিপাশা এলাকায় অবস্থিত নার্সিং কলেজের ক্যাশিয়ার কামাল হোসেন কাগজে কলমে অতিথি শিক্ষকের ভুয়া নাম ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা এবং কলেজে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। নার্সিং কলেজের আবাসিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দপ্তরে এ সংক্রান্ত এক অভিযোগ দায়ের করেছেন। নার্সিং কলেজ মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও তিনি রাত যাপন করেন ক্যাম্পাসের মধ্যেই। নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) গীতা রানি সমদ্দার, ইন্সট্রাকটর জাহানারা বেগম ও কামাল হোসেন যোগসাজশে এ দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। অথচ কামরুল হাসান নামে আইসিটির কোন অতিথি শিক্ষক কলেজে পাঠদান তো দূরের কাগজ কলমের বাইরে তার কোন অস্তিত্বই নাই।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন দুজন ইন্সট্রাক্টর ও ক্যাশিয়ার কামাল হোসেনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কলেজকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। এদের সহায়তায় ক্যাশিয়ার কামাল হোসেন নার্সিং কলেজের মধ্যে আবাসিকে বসবাস করে ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট সচেতনরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ দায়েরের পরও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা।

ঝালকাঠি নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কলেজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ জানুয়ারি কলেজের ইনস্ট্রাক্টর হাসিনা তাজমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ গীতা রানী সমদ্দার। এর পাল্টা হিসেবে হাসিনা তাজমিন ৩০ জানুয়ারি অধ্যক্ষের অনুগত কলেজের অফিস সহকারী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ বেশ কিছু অভিযোগ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা প্রশাসক বরাবর করেছেন। এরপরই শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। একে অপরের বিরুদ্ধে চলতে থাকে বিষোদ্গার।

গত ৩০ জানুয়ারি অভিযোগ দাখিল করলেও প্রায় তিনমাস অতিবাহিত হতে চললেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের তদবিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শিক্ষা শাখায় ফাইলটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। কোন অগ্রগতি না থাকায় চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে অভিযোগকারীরা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ঝালকাঠি নার্সিং কলেজটি ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০২১ সালে অধ্যক্ষ ও একজন কর্মচারী নিয়ে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ অধ্যক্ষ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি শিক্ষক হাসিনা তাজমিন যোগদান করার পরই কলেজের দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে যায়। তিনি যোগদান করার পর থেকেই ছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি শুরু করেন। হাসিনা তাজমিন বরগুনা নার্সিং ইনস্টিটিউটে কর্মরত থাকাকালে সেখানকার নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জের সঙ্গে ঝামেলা করে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। তখন তাঁকে নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঝালকাঠি নার্সিং কলেজে বদলি করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই ছাত্রীদের নাম ভাঙিয়ে ফেসবুকে কলেজের নামে বিভিন্ন রকম মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ছাত্রীদের উসকে দেন। ছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনমুখী করেন। শিক্ষক হাসিনা তাজমিন ক্লাসের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে ছাত্রীদের বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেখিয়ে এই কলেজে কর্মরত কর্মচারী ও অধ্যক্ষের নামে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল কথা বলেছেন। ছাত্রীদের ফেল করার ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন, যা ছাত্রীরা স্বীকার করেছেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষক জড়িত রয়েছেন। হাসিনা তাজমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তা তিনি গ্রহণ না করে অধ্যক্ষকে জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন।

অপর দিকে হাসিনা তাজমিন নার্সিং কলেজের অফিস সহকারী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লেখ করেন, কামাল হোসেন ‘কামরুল হাসান’ নামের খণ্ডকালীন শিক্ষকের ভুয়া নাম ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। নার্সিং কলেজ মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও তিনি রাত যাপন করেন ক্যাম্পাসের মধ্যেই। যার প্রতিবাদ করায় ছাত্রীদের ছাত্রী নিবাস থেকে বের করে দেওয়া, ছাত্রীত্ব বাতিল করা, পরীক্ষায় ফেল করানো, ভাইভা পরীক্ষা ও ফর্মেটির মার্ক কম দেয়া হয়েছে। যার সাথে সিনিয়র শিক্ষক জাহানারা বেগম এর সরাসরি ইন্ধন যোগায়। জাহানারা বেগম লিখিত পরীক্ষার হলে নকল এবং মোবাইল সাপ্লাই দেয়। পরীক্ষার হলে নকল এবং মোবাইল সাপ্লাই বাধা দিলে আর একজন সিনিয়র শিক্ষক ঝালকাঠি পাশা নার্সিং কলেজের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নকল এবং মোবাইল সাপ্লাই দিতে বাধ্য করে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে ছাত্রীদের ওয়াইফাই বিল দিলেও ছাত্রীরা ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারেনি। বিগত দিন পরে ছাত্রীদের তোপের মুখে এখন ওয়াইফাই দিলে ও ছাত্রীদের নিজেদের টাকায় রাউটার কিনতে হয়। অনেক আগে জাহানারা বেগম ছাত্রীদের মেসের টাকায় বাজার করে নিতো। এ নিয়ে শিক্ষিকা নিপা’র সাথে হামলা মামলা হয়। জাহানারা বেগম ছাত্রীদের দিয়ে ক্লাসে মোবাইল রেকর্ড করে প্রতিবাদকারী অন্যান্য ইন্সট্রাক্টর দিয়ে মানহানি করে। প্রতিবাদ করলে জাহানারা বেগম ও তার স্বামী মো. মান্নান প্রতিবাদকারী ইন্সট্রাক্টরের (শিক্ষক) পা কেটে ফেলাসহ জীবন নাশের হুমকি দেয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গীতা রাণি সমদ্দার জানান, হাসিনা তাজমিন উচ্ছৃঙ্খল। তিনি কারও কোনো কথা শোনেন না। কোনো নিয়মনীতির মধ্যে নেই। তাঁর বিষয়ে মহাপরিচালক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নার্সিং কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে। আমার দৃষ্টিতে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। তবুও যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমাকে জানাবে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষক হাসিনা তাজমিন জানান, আমি কলেজের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে কথা বলায় আমার ওপর কলেজ অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমাকে ফাঁসাতে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম জানান, নার্সিং কলেজের কোন অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তা তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঝালকাঠি নার্সিং কলেজে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৯:০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

এইচ এম নাসির উদ্দিন ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কির্তিপাশা এলাকায় অবস্থিত নার্সিং কলেজের ক্যাশিয়ার কামাল হোসেন কাগজে কলমে অতিথি শিক্ষকের ভুয়া নাম ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা এবং কলেজে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। নার্সিং কলেজের আবাসিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দপ্তরে এ সংক্রান্ত এক অভিযোগ দায়ের করেছেন। নার্সিং কলেজ মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও তিনি রাত যাপন করেন ক্যাম্পাসের মধ্যেই। নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) গীতা রানি সমদ্দার, ইন্সট্রাকটর জাহানারা বেগম ও কামাল হোসেন যোগসাজশে এ দুর্নীতি করে যাচ্ছেন। অথচ কামরুল হাসান নামে আইসিটির কোন অতিথি শিক্ষক কলেজে পাঠদান তো দূরের কাগজ কলমের বাইরে তার কোন অস্তিত্বই নাই।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন দুজন ইন্সট্রাক্টর ও ক্যাশিয়ার কামাল হোসেনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কলেজকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। এদের সহায়তায় ক্যাশিয়ার কামাল হোসেন নার্সিং কলেজের মধ্যে আবাসিকে বসবাস করে ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট সচেতনরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ দায়েরের পরও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারীরা।

ঝালকাঠি নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে কলেজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ জানুয়ারি কলেজের ইনস্ট্রাক্টর হাসিনা তাজমিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ গীতা রানী সমদ্দার। এর পাল্টা হিসেবে হাসিনা তাজমিন ৩০ জানুয়ারি অধ্যক্ষের অনুগত কলেজের অফিস সহকারী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ বেশ কিছু অভিযোগ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা প্রশাসক বরাবর করেছেন। এরপরই শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ প্রকট আকার ধারণ করে। একে অপরের বিরুদ্ধে চলতে থাকে বিষোদ্গার।

গত ৩০ জানুয়ারি অভিযোগ দাখিল করলেও প্রায় তিনমাস অতিবাহিত হতে চললেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তদের তদবিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শিক্ষা শাখায় ফাইলটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। কোন অগ্রগতি না থাকায় চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে অভিযোগকারীরা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ঝালকাঠি নার্সিং কলেজটি ভবনটি হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০২১ সালে অধ্যক্ষ ও একজন কর্মচারী নিয়ে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কলেজ অধ্যক্ষ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি শিক্ষক হাসিনা তাজমিন যোগদান করার পরই কলেজের দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে যায়। তিনি যোগদান করার পর থেকেই ছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি শুরু করেন। হাসিনা তাজমিন বরগুনা নার্সিং ইনস্টিটিউটে কর্মরত থাকাকালে সেখানকার নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জের সঙ্গে ঝামেলা করে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। তখন তাঁকে নার্সিং মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ঝালকাঠি নার্সিং কলেজে বদলি করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এই ছাত্রীদের নাম ভাঙিয়ে ফেসবুকে কলেজের নামে বিভিন্ন রকম মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ছাত্রীদের উসকে দেন। ছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনমুখী করেন। শিক্ষক হাসিনা তাজমিন ক্লাসের কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে ছাত্রীদের বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেখিয়ে এই কলেজে কর্মরত কর্মচারী ও অধ্যক্ষের নামে কুরুচিপূর্ণ, অশ্লীল কথা বলেছেন। ছাত্রীদের ফেল করার ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছেন, যা ছাত্রীরা স্বীকার করেছেন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষক জড়িত রয়েছেন। হাসিনা তাজমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তা তিনি গ্রহণ না করে অধ্যক্ষকে জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন।

অপর দিকে হাসিনা তাজমিন নার্সিং কলেজের অফিস সহকারী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লেখ করেন, কামাল হোসেন ‘কামরুল হাসান’ নামের খণ্ডকালীন শিক্ষকের ভুয়া নাম ব্যবহার করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। নার্সিং কলেজ মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও তিনি রাত যাপন করেন ক্যাম্পাসের মধ্যেই। যার প্রতিবাদ করায় ছাত্রীদের ছাত্রী নিবাস থেকে বের করে দেওয়া, ছাত্রীত্ব বাতিল করা, পরীক্ষায় ফেল করানো, ভাইভা পরীক্ষা ও ফর্মেটির মার্ক কম দেয়া হয়েছে। যার সাথে সিনিয়র শিক্ষক জাহানারা বেগম এর সরাসরি ইন্ধন যোগায়। জাহানারা বেগম লিখিত পরীক্ষার হলে নকল এবং মোবাইল সাপ্লাই দেয়। পরীক্ষার হলে নকল এবং মোবাইল সাপ্লাই বাধা দিলে আর একজন সিনিয়র শিক্ষক ঝালকাঠি পাশা নার্সিং কলেজের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নকল এবং মোবাইল সাপ্লাই দিতে বাধ্য করে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে ছাত্রীদের ওয়াইফাই বিল দিলেও ছাত্রীরা ওয়াইফাই ব্যবহার করতে পারেনি। বিগত দিন পরে ছাত্রীদের তোপের মুখে এখন ওয়াইফাই দিলে ও ছাত্রীদের নিজেদের টাকায় রাউটার কিনতে হয়। অনেক আগে জাহানারা বেগম ছাত্রীদের মেসের টাকায় বাজার করে নিতো। এ নিয়ে শিক্ষিকা নিপা’র সাথে হামলা মামলা হয়। জাহানারা বেগম ছাত্রীদের দিয়ে ক্লাসে মোবাইল রেকর্ড করে প্রতিবাদকারী অন্যান্য ইন্সট্রাক্টর দিয়ে মানহানি করে। প্রতিবাদ করলে জাহানারা বেগম ও তার স্বামী মো. মান্নান প্রতিবাদকারী ইন্সট্রাক্টরের (শিক্ষক) পা কেটে ফেলাসহ জীবন নাশের হুমকি দেয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গীতা রাণি সমদ্দার জানান, হাসিনা তাজমিন উচ্ছৃঙ্খল। তিনি কারও কোনো কথা শোনেন না। কোনো নিয়মনীতির মধ্যে নেই। তাঁর বিষয়ে মহাপরিচালক মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নার্সিং কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে। আমার দৃষ্টিতে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। তবুও যদি কারো কোন অভিযোগ থাকে তাহলে আমাকে জানাবে। বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষক হাসিনা তাজমিন জানান, আমি কলেজের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে কথা বলায় আমার ওপর কলেজ অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমাকে ফাঁসাতে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম জানান, নার্সিং কলেজের কোন অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তা তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে